
বিশেষ প্রতিবেদকঃ ইরানের ওপর চাপ আরও বাড়াতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির স্থলসীমান্ত ও কাস্পিয়ান সাগর দিয়ে অস্ত্র, দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি এবং নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত পণ্যের প্রবেশ ঠেকাতে বিশেষ টাস্কফোর্স ‘আয়রন গেট’ গঠন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। তবে ভৌগোলিক অবস্থান, আন্তর্জাতিক আইন ও আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে এই উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজ এজেন্সির এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক মাস ধরে নৌ অবরোধ চালিয়েও ইরানের বিরুদ্ধে ঘোষিত লক্ষ্য পুরোপুরি অর্জন করতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। এমন পরিস্থিতিতে সামরিক চাপের পাশাপাশি ইরানের অর্থনীতি ও বাণিজ্যিক যোগাযোগব্যবস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে ওয়াশিংটন।
রয়টার্সের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়, ফ্লোরিডার টাম্পায় প্রায় ২০ জন সামরিক ও বেসামরিক সদস্য নিয়ে কাজ করবে নতুন এই টাস্কফোর্স। সেন্টকমের ভাষ্য অনুযায়ী, এর প্রধান উদ্দেশ্য ইরানের অস্ত্র উৎপাদন ও সামরিক শিল্প পুনর্গঠনের সক্ষমতা কমিয়ে দেওয়া। একই সঙ্গে সামরিক সরঞ্জামের মজুত বৃদ্ধি এবং এ খাতে অর্থায়নের পথও সংকুচিত করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে, নৌ অবরোধের মাধ্যমে ইরানের ২৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি আটকে দেওয়ার দাবি করেছে ওয়াশিংটন। নতুন টাস্কফোর্সের মাধ্যমে স্থল ও সমুদ্রপথে ইরানের সরবরাহব্যবস্থার ওপরও নজরদারি বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে ইরানের ভৌগোলিক অবস্থান। দেশটির সাতটি স্থলপ্রতিবেশী রয়েছে। এসব দেশের সহযোগিতা ছাড়া ইরানের সীমান্ত দিয়ে পণ্য ও প্রযুক্তি প্রবেশের পথ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কঠিন হবে।
কাস্পিয়ান সাগর ঘিরেও রয়েছে আইনি জটিলতা। ২০১৮ সালে স্বাক্ষরিত কাস্পিয়ান সাগরের আইনি মর্যাদাবিষয়ক কনভেনশন অনুযায়ী, উপকূলীয় পাঁচ দেশের বাইরে অন্য কোনো দেশের সামরিক উপস্থিতি সেখানে নিষিদ্ধ। ফলে কাস্পিয়ান সাগরকেন্দ্রিক মার্কিন সামরিক তৎপরতা বাড়ানোর সুযোগও সীমিত।
বিশ্লেষকদের মতে, গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর এবং বাণিজ্যিক নেটওয়ার্কের ওপর চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কিছু আমদানি-রপ্তানি ও আর্থিক লেনদেন বাধাগ্রস্ত করতে পারে। কিন্তু দেশটির সব স্থলসীমান্ত ও সমুদ্রপথ বন্ধ করে দেওয়া বাস্তবসম্মত নয়।
সব মিলিয়ে, ‘আয়রন গেট’কে ইরানের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ অবরোধের সামরিক পরিকল্পনা হিসেবে দেখার সুযোগ কম। বরং বিদ্যমান সামরিক চাপের পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিকভাবে তেহরানকে আরও চাপে রাখার একটি নতুন মার্কিন কৌশল হিসেবেই এটিকে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।
