ক্রীড়া ডেস্কঃ ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ের ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২-১ গোলের রুদ্ধশ্বাস জয় পেয়েছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প লেখার পর আলবিসেলেস্তে ফুটবলাররা দর্শকদের সামনে উল্লাসে মেতে ওঠেন।
এ সময় তারা একটি ব্যানার প্রদর্শন করেন, যাতে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপর তাদের মালিকানার দাবি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। এর মধ্যে দিয়ে তারা দ্বীপপুঞ্জটির ওপর আর্জেন্টিনার সেই ঐতিহাসিক সার্বভৌমত্বের দাবিটি আবারও বিশ্বের বুকে তুলে ধরলো। যা ১৯৮২ সালে দুই দেশের মধ্যে এক সশস্ত্র যুদ্ধের মূল কারণ ছিল।
ব্যানারটি সেই ভূখণ্ডকে কেন্দ্র করে, যা ব্রিটেনে ‘ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ’ এবং আর্জেন্টিনায় ‘ইসলাস মালভিনাস’ নামে পরিচিত। এই অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ৪৪ বছর আগে ৭৪ দিনব্যাপী এক সংঘাত হয়েছিল। সেই সংঘাতে ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন ও ২৫৫ জন ব্রিটিশসহ মোট ৯০০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।
লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ও জিওভানি লো সেলসো হাসিমুখে ব্যানারটি উঁচিয়ে ধরেন এবং গ্যালারিতে থাকা দর্শকদের উদ্দেশ্যে হাত নাড়েন। ব্যানারটি কোথা থেকে এসেছিল, তা অবশ্য স্পষ্ট নয়। বিশ্বকাপে রাজনৈতিক ব্যানার নিয়ে প্রশ্ন ওঠার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। গত মাসে লস অ্যাঞ্জেলেসে ইরানের ম্যাচের সময় ইরানি-আমেরিকানরা বিপ্লব-পূর্ববর্তী পতাকা উড়িয়েছিল, যা তেহরান সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক। অবশ্য সেই ম্যাচগুলো কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছিল।
এছাড়াও কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের পথ সুগম করার পর আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড়কে স্লোগান দিতে শোনা গিয়েছিল, মালভিনাসের জন্য, দিয়েগোর জন্য এবং মেসির শেষটির জন্য।
আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার রদ্রিগো ডি পল বলেছেন, আমরা বুঝি যে এটি এমন একটি ফুটবল ম্যাচ যার গুরুত্ব খেলার গণ্ডি ছাড়িয়ে যায়; এটি দিয়েগো যা করেছিলেন তার স্মৃতি ফিরিয়ে আনে। আমরা মালভিনাস যুদ্ধের বীরদের নিয়ে গান গাই, মূলত তাদের স্মরণ করার জন্য; তবে আমাদের বুঝতে হবে যে এটি একটি ফুটবল ম্যাচ এবং মালভিনাস প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনার জায়গা অন্য। অতীতে যা ঘটেছিল তা ছিল এক নৃশংস ঘটনা এবং আমরা সবসময়ই শহীদদের কথা স্মরণ করি, কিন্তু এখন আমাদের লক্ষ্য হলো এই ম্যাচটি জিতে ফাইনালে ওঠা।
ফিফার স্টেডিয়াম আচরণবিধি অনুযায়ী, স্টেডিয়ামের ভেতরে “রাজনৈতিক, আপত্তিকর অথবা বৈষম্যমূলক প্রকৃতির ব্যানার, পতাকা, লিফলেট, পোশাক ও অন্যান্য সামগ্রী” বহন বা প্রদর্শন নিষিদ্ধ।
<p>..</p>
Copyright © 2025 All rights reserved ভোরের আলো