
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হারসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্ক অবস্থানের মধ্যেই বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বেড়েছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমে আসায় মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও চলতি বছরের শেষ দিকে সুদের হারের সম্ভাব্য গতিপথও মূল্যায়ন করছেন বিনিয়োগকারীরা।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় সকাল ১টা ৪১ মিনিটে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ০.৪ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ১৮১ ডলার ৮৪ সেন্টে দাঁড়ায়। একই সময়ে ডিসেম্বর মাসে সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ফিউচার দর ০.৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২০২ ডলার ৭০ সেন্টে পৌঁছায়।
এদিন আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও পাঁচ মাসের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে নেমে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ও শুল্কে ছাড় দেওয়ার পর দেশটি থেকে জ্বালানি রপ্তানি বাড়তে পারে—এমন প্রত্যাশায় বিনিয়োগকারীরা মুনাফা তুলে নিতে শুরু করেন। এতে তেলের দামে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দেয়।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) ও উৎপাদক মূল্যসূচক (পিপিআই) প্রত্যাশার তুলনায় বেশি শক্তিশালী অবস্থানে ছিল। জ্বালানি, বিশেষ করে পেট্রলের দাম বৃদ্ধি এর অন্যতম কারণ। তবে তেলের দাম কমে আসায় মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা প্রশমিত হয়েছে।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, সপ্তাহের শুরুতে স্বর্ণের দামে সামান্য ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। মূল্যস্ফীতির দৃষ্টিকোণ থেকে তেলের দাম কমে আসা স্বর্ণের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
তিনি আরও বলেন, নিকট ভবিষ্যতে তেলের দাম ধারাবাহিকভাবে কমে আসা অথবা যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডের সুদহার স্পষ্টভাবে নিম্নমুখী হওয়া স্বর্ণের বাজারের জন্য ইতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। এতে মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার নিয়ে উদ্বেগ কমতে পারে।
বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এখন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটির সুদের হারসংক্রান্ত বৈঠক এবং আগামী সপ্তাহে প্রকাশিতব্য ব্যক্তিগত ভোগ ব্যয় (পিসিই) মূল্যসূচকের তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছেন। মূল্যস্ফীতি দীর্ঘমেয়াদে ২ শতাংশে রাখার লক্ষ্যের সঙ্গে অর্থনীতির পরিস্থিতি কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা মূল্যায়নে পিসিই মূল্যসূচককে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক হিসেবে ব্যবহার করে ফেডারেল রিজার্ভ।
সিএমই গ্রুপের ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা ১৫ শতাংশ এবং ডিসেম্বরে বাড়ানোর সম্ভাবনা ৮৯ শতাংশ ধরে হিসাব করছেন বাজারের ব্যবসায়ীরা।
সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষিত বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণকে বিবেচনা করা হয়। তবে স্বর্ণ থেকে নিয়মিত সুদ বা আয় পাওয়া যায় না। ফলে সুদের হার বাড়লে সুদযুক্ত বিনিয়োগের তুলনায় স্বর্ণের আকর্ষণ কমতে পারে।
এদিকে মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক চলতি বছরের মধ্যে অন্তত আরও একবার সুদের হার ২৫ ভিত্তি পয়েন্ট বাড়াতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। শুক্রবার সংস্থাটি এ পূর্বাভাস দেয়।
স্বর্ণের পাশাপাশি সোমবার অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম প্রায় ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫৭ ডলার ৫৩ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। প্লাটিনামের দাম ১.৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৬৫১ ডলার ৬৭ সেন্ট এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১.৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ১২৭ ডলার ৫৯ সেন্টে পৌঁছেছে।
<p>..</p>
Copyright © 2025 All rights reserved ভোরের আলো