ক্রীড়া ডেস্ক : জয়ের দারুণ সম্ভাবনা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয় তুলে নিতে পারল না বাংলাদেশ। পঞ্চম ও শেষ দিনে আফগানিস্তানের ৭ উইকেট তুলে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছিল টাইগাররা। কিন্তু সেদিকুল্লাহ আতালের দুর্দান্ত সেঞ্চুরির পর ইয়ামিন আহমাদজাই ও কায়েস আহমেদের দৃঢ়তায় অবিশ্বাস্য এক ড্র আদায় করে নিয়েছে আফগানিস্তান।
শেষ দিনে আফগানিস্তানের প্রয়োজন ছিল ৩৪৭ রান। অন্যদিকে, বাংলাদেশের লক্ষ্য ছিল দ্রুত বাকি উইকেটগুলো তুলে নেওয়া। শুরুতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট হারালেও শেষ পর্যন্ত প্রতিরোধ গড়ে ম্যাচ বাঁচিয়ে দেয় আফগানরা।
পঞ্চম দিনের খেলা শুরু হয়েছিল ৩ উইকেটে ১৩২ রান নিয়ে। আগের দিনের অপরাজিত দুই ব্যাটার সেদিকুল্লাহ আতাল ও হাসমতউল্লাহ শহীদি সতর্ক ব্যাটিংয়ে দিনের প্রথম ভাগ পার করার চেষ্টা করেন। তবে প্রচণ্ড গরমে ক্র্যাম্পের কারণে ৩৩ বলে ২০ রান করে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন শহীদি।
লাঞ্চের আগে বাংলাদেশকে সাফল্য এনে দেন এবাদত হোসেন। তাঁর বলে পুল করতে গিয়ে ব্যাটের বাইরের কানায় বল লাগিয়ে উইকেটের পেছনে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দেন ইকরাম আলিখিল। ৬৯ বলে ৩৩ রান করে ফেরেন তিনি।
এরপর সেদিকুল্লাহ আতালের সঙ্গে ৪০ রানের জুটি গড়েন ইসমত আলম। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ক্যাচ দিয়ে ৪ রান করে আউট হন ইসমত। পরে আবার ব্যাটিংয়ে ফেরা শহীদিকে ফিরিয়েও বাংলাদেশকে স্বস্তি দেন মিরাজ। ৬৯ বলে ৩৬ রান করে সাজঘরে ফেরেন আফগান অধিনায়ক।
তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে দুর্দান্ত ব্যাটিং চালিয়ে যান আতাল। বাংলাদেশের বোলারদের দীর্ঘ সময় আটকে রেখে টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন এই আফগান ওপেনার। ৩৩২ বলের ইনিংসে ৯টি চার ও ৩টি ছক্কায় ১১১ রান করেন তিনি।
শেষ পর্যন্ত তাইজুল ইসলামের বলে শর্ট লেগে তানজিদ হাসানের হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন আতাল। তাঁর আউটের পর বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। কিন্তু শেষদিকে ইয়ামিন আহমাদজাই ও কায়েস আহমেদের দৃঢ় ব্যাটিংয়ে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি টাইগাররা।
একাধিকবার উইকেটের সুযোগ তৈরি করেও শেষ পর্যন্ত আফগানিস্তানের প্রতিরোধ ভাঙতে ব্যর্থ হয় বাংলাদেশ। ফলে জয়ের খুব কাছে গিয়েও ড্র নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় স্বাগতিকদের।
বাংলাদেশের হয়ে এবাদত হোসেন ও মেহেদী হাসান মিরাজ তিনটি করে উইকেট নেন। হাসান মাহমুদ ও নাঈম হাসান পান একটি করে উইকেট।
<p>..</p>
Copyright © 2025 All rights reserved ভোরের আলো