
বিশেষ প্রতিবেদকঃ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর বা Local Government Engineering Department (এলজিইডি) পরিচালিত সড়ক উন্নয়ন ও আয়রন ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্পে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের পর অভিযান চালিয়েছে Anti-Corruption Commission (দুদক)। অভিযোগের ভিত্তিতে ময়মনসিংহ ও পিরোজপুর জেলায় পৃথকভাবে এনফোর্সমেন্ট টিম পাঠানো হয় এবং সেখানে প্রকল্পের বাস্তব অবস্থা যাচাই করা হয়।
দুদকের একটি টিম হালুয়াঘাট উপজেলা, ময়মনসিংহ এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযোগ ছিল, এলজিইডির সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের নামে সরকারি অর্থ বরাদ্দ নেওয়া হলেও বাস্তবে কাজ ঠিকভাবে করা হয়নি এবং কাজের মানও অত্যন্ত নিম্নমানের। এনফোর্সমেন্ট টিম স্বদেশী ইউনিয়নের মিলনবাজার সংলগ্ন নির্মাণাধীন সড়ক পরিদর্শন করে। সেখানে গিয়ে তারা প্রকল্পের নথিপত্র পরীক্ষা করে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে। অভিযানের সময় সড়কের বিভিন্ন স্থানে মাপজোক করা হয় এবং কয়েকটি জায়গায় রাস্তা খনন করে কাজের মান যাচাই করা হয়। প্রাথমিকভাবে দেখা যায়, কাগজে-কলমে যে পরিমাণ কাজ দেখানো হয়েছে, বাস্তবে তার সঙ্গে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য থাকতে পারে। বিস্তারিত তদন্তের জন্য প্রকল্প-সংক্রান্ত বিভিন্ন নথি ও তথ্য সংগ্রহ করেছে দুদক।
এদিকে আরেকটি অভিযান চালানো হয় পিরোজপুর জেলায়। অভিযোগ রয়েছে, সদর উপজেলার কদমতলী ইউনিয়নের বাগমারা আবাসন এলাকা এবং ভান্ডারিয়া উপজেলা-এর ৬ নম্বর ওয়ার্ডসহ কয়েকটি স্থানে আয়রন ব্রিজ নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হলেও অনেক জায়গায় কাজ পুরোপুরি শেষ করা হয়নি। অথচ প্রকল্পের অর্থ তুলে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের পর পিরোজপুরে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় থেকে একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে বাস্তব পরিস্থিতি যাচাই করে। সেখানে বিভিন্ন ব্রিজের কাজের অগ্রগতি পরীক্ষা করা হয় এবং প্রকল্প অনুযায়ী বরাদ্দ অর্থের সঙ্গে বাস্তব কাজের মিল রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হয়।
দুদক সূত্র জানায়, ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও প্রাথমিক যাচাইয়ে অভিযোগের কিছু সত্যতা মিলেছে। ইতোমধ্যে এই বিষয়গুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত মোট আটটি মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে প্রকল্পগুলোর পরিমাপ নেওয়া হয়েছে এবং কোথাও কাজ কম দেখিয়ে বা কাজ না করেই বিল তোলার ঘটনা ঘটেছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম দুটি অভিযানে সংগ্রহ করা নথিপত্র ও তথ্য বিশ্লেষণ করে কমিশনের কাছে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেবে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
