ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ঠাকুরগাঁও-১ (সদর, রুহিয়া ও ভুল্লী) আসনের উপনির্বাচনে বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন। পোস্টাল ভোটসহ ১৮৫টি কেন্দ্রের চূড়ান্ত ফলাফলে তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীকে ১ লাখ ৩১ হাজার ৪০৪ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন অফিসার মো. কামরুল ইসলাম। এর আগে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
রিটার্নিং কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত চূড়ান্ত ঘোষণাপত্রের তথ্য অনুযায়ী, পোস্টাল ভোটসহ ১৮৬টি কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফলে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ২ লাখ ২৭ হাজার ৯১৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর দেলাওয়ার হোসেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৫১৩ ভোট। অর্থাৎ, ১ লাখ ৩১ হাজার ৪০৪ ভোটের বিশাল ব্যবধানে ভূমিধস জয় পেয়েছেন বিএনপি প্রার্থী।
নির্বাচনে অংশ নেয়া অন্য তিন প্রার্থীর মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. খাদেমুল ইসলাম (হাতপাখা) পেয়েছেন ৩ হাজার ২৮৯ ভোট, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আবদুল আলীম নিজামী (বটগাছ) পেয়েছেন ৮৩৬ ভোট এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক (ডাব) পেয়েছেন ৪৫০ ভোট।
রিটার্নিং কর্মকর্তার দেয়া তথ্যমতে, ৫ লাখ ১৬ হাজার ৪৫১ জন ভোটারের এ আসনে মোট ভোট পড়েছে ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৩৩০টি, যা মোট ভোটারের ৬৪ দশমিক ৮১ শতাংশ। এর মধ্যে বৈধ ভোটের সংখ্যা ৩ লাখ ২৯ হাজার ৫টি এবং বাতিল হয়েছে ৫ হাজার ৩২৫টি ভোট।
ভোটগ্রহণের দিন আবহাওয়া কিছুটা খারাপ থাকলেও বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন মির্জা ফয়সল আমীন। তবে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, অনেক কেন্দ্রে কর্মকর্তাদের পরিচয়পত্রে ছবি ছিল না, যা উদ্বেগজনক। তিনি ১৫টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিও তুলেছিলেন।
ভোট চলাকালে একটি কেন্দ্রে প্রক্সি বা জাল ভোট দেয়ার চেষ্টার অভিযোগে তিনজনকে আটক করা হয়। এ ছাড়া নির্বাচনী আচরণবিধি ভেঙে প্রতীকসহ ভোটারের স্লিপ বিতরণের দায়ে এক জামায়াত নেতাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া ও সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, নির্বাচন শতভাগ শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু হয়েছে এবং কমিশনকে উদ্বিগ্ন করার মতো কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। কর্মকর্তাদের পরিচয়পত্রে ছবি না থাকার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভোটার ও পোলিং অফিসারদের পরিচয় ডেটাবেজের তথ্য মিলিয়ে নিশ্চিত করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট এজেন্টদের বিষয়টি বুঝিয়ে সমাধান করা হয়েছে।
উপনির্বাচন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আসনটিতে ২১ প্লাটুন বিজিবি, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) ২৫১ সদস্য, ২ হাজার ২৭২ জন পুলিশ এবং ২ হাজার ৪০৫ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটদের মনিটরিং টিমের পাশাপাশি ৪ জন বিদেশি পর্যবেক্ষকসহ দেশি-স্থানীয় ১৭৭ জন পর্যবেক্ষক পুরো নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেন।
<p>..</p>
Copyright © 2025 All rights reserved ভোরের আলো