
বিশেষ প্রতিবেদকঃ টাঙ্গাইল বন বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম আর দুর্নীতির অভিযোগ ঘুরে বেড়াচ্ছে—এমনই জানাচ্ছে স্থানীয় কিছু সংবাদ সূত্র। দেশের বিভিন্ন জায়গায় বন বিভাগের অনেক সফল উদ্যোগ থাকলেও টাঙ্গাইল অঞ্চলে কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর আচরণ সেই ভাবমূর্তিকে নষ্ট করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে কয়েকটি রেঞ্জে পোস্টিং পাওয়ার জন্য নাকি বড় অঙ্কের টাকা লেনদেন হয় এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করা হয়।
টাঙ্গাইল বন বিভাগের অধীনে মোট নয়টি রেঞ্জ এবং একটি চেক স্টেশন রয়েছে। এর মধ্যে বাঁশতৈল রেঞ্জ, হতেয়া রেঞ্জ ও করটিয়া চেক স্টেশনকে সবচেয়ে ‘লোভনীয়’ বলে উল্লেখ করা হয়। স্থানীয় সূত্র দাবি করছে, এসব জায়গায় পোস্টিং নিতে অনেকেই নানা উপায়ে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন।
তাদের অভিযোগে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে দুই কর্মকর্তা—হতেয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা এসএম আব্দুর রশীদ এবং বাঁশতৈল রেঞ্জ কর্মকর্তা শাহীনুর রহমান। অভিযোগে বলা হচ্ছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে নানা দুর্নীতির সুযোগ নিয়েছেন।
এসএম আব্দুর রশীদকে নিয়ে অভিযোগ আরও পুরোনো। চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগে তিনি নাকি এক বছরের জায়গায় টানা আট বছর দায়িত্বে ছিলেন। সংবাদ সূত্রের দাবি, তিনি তখন প্রভাবশালী একজন সাবেক এমপির ‘ডিও লেটার’ দেখিয়ে নিজের অবস্থান শক্ত করেন এবং সেই সুবিধা নিয়েই আর্থিকভাবে উপকৃত হন। তার বিরুদ্ধে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের জমি দখলে প্রভাবশালীদের সহায়তার অভিযোগও রয়েছে বলে সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে।
২০২১ সালে তিনি কেন্দ্রীয় সার্কেলে বদলি নেন এবং পরে বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করে টাঙ্গাইল বন বিভাগে নিজের পছন্দের পোস্টিং নেন—এমন অভিযোগও উঠে এসেছে। বর্তমানে তিনি হতেয়া রেঞ্জে থাকলেও তার লক্ষ্য নাকি বাঁশতৈল রেঞ্জের দায়িত্ব নেওয়া। খবর এসেছে যে তিনি ইতোমধ্যে সেখানে একটি বিটে পোস্টিংও নিশ্চিত করেছেন।
অন্যদিকে শাহীনুর রহমান, যিনি প্রায় ২ বছর ৮ মাস ধরে বাঁশতৈল রেঞ্জের দায়িত্বে আছেন, তার বিরুদ্ধেও কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। সম্প্রতি তিনি নাকি করটিয়া চেক স্টেশনে চলার চেষ্টা করছেন এবং সেই পোস্টিংও প্রায় নিশ্চিত বলে গুঞ্জন চলছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ—এই দুই কর্মকর্তা টাঙ্গাইল জেলার হওয়ায় তারা এলাকায় নিজস্ব প্রভাব বিস্তার করতে পারছেন এবং অন্যদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন। যদিও বন বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী নিজের এলাকায় চাকরি করার সুযোগ থাকার কথা নয়। সংবাদকর্মীরা এসএম আব্দুর রশীদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি অভিযোগের স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলে জানা গেছে। আর শাহীনুর রহমানকে অফিসে পাওয়া যায়নি।
সচেতন নাগরিকরা বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
<p>..</p>
Copyright © 2025 All rights reserved ভোরের আলো