
নিজস্ব প্রতিবেদক : গণপূর্ত অধিদপ্তরের তেজগাঁও বিভাগের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী (ই/এম) মো. জাহাঙ্গীর আলমকে ঘিরে একের পর এক গুরুতর অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি চাকরির সুবাদে অস্বাভাবিক সম্পদ অর্জন, টেন্ডার ও বিল-বাণিজ্য, ভুয়া বিল-ভাউচার, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর ছাড়াই বিল ছাড়ানো, নিয়োগ ও বদলি-বাণিজ্য এবং প্রকল্পে প্রভাব বিস্তারের মতো কর্মকাণ্ডে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিলেন তিনি। অভিযোগের মাত্রা এতটাই গুরুতর যে, তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ ও আয়বহির্ভূত সম্পদের অভিযোগসহ বিভিন্ন অনিয়ম খতিয়ে দেখতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে মো. জাহাঙ্গীর আলমের বক্তব্য এই প্রতিবেদনের প্রস্তুতির সময় পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে জিগাতলা মাল্টিপারপাস হল প্রকল্পের বিল নিয়ে। অভিযোগ অনুযায়ী, ভিডিও ওয়াল সরবরাহ না করেই এর বিল পরিশোধ করা হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ নিয়ে তদন্ত শুরু হওয়ার পর সেই ভিডিও ওয়াল সরবরাহ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—তদন্তের আগেই কেন কাজের বিল দেওয়া হয়েছিল এবং তদন্ত শুরু হওয়ার পর কেন অসম্পন্ন কাজ সম্পন্ন করা হলো?
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তদন্ত প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অভিযোগকারীরা।
৮ কোটি টাকার জিগাতলা বিল: কাজ অর্ধেক, বিল পুরো—এমন অভিযোগ :
অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, জিগাতলা প্রকল্পের দুটি ভবনের প্রায় ৮ কোটি টাকার কাজের বিল নিয়ে বড় ধরনের অনিয়ম হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাহবুব কনস্ট্রাকশনের সঙ্গে যোগসাজশ করে বিলের অর্থ ভাগাভাগি করার অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন না করে বিল অনুমোদন দেওয়া হয়। এমনকি উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীর স্বাক্ষর ছাড়াই বিল উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। কিছু নথিতে ‘অনুপস্থিত/স্বাক্ষরবিহীন’ অবস্থায় বিল প্রক্রিয়াকরণের অভিযোগও রয়েছে। একজন প্রকৌশলীর ভাষ্য, “স্বাক্ষর আমাদের, টাকা তাদের—এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে প্রকৌশল বিভাগে জবাবদিহি কোথায় থাকে?”
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নথি যাচাই ও তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
তদন্ত শুরু হতেই ভিডিও ওয়াল! প্রশ্নের মুখে তদন্তের নিরপেক্ষতা :
জিগাতলা মাল্টিপারপাস হলের ভিডিও ওয়াল সরবরাহ না করেই বিল পরিশোধ করা হয়েছিল—এমন অভিযোগের পর বিষয়টি তদন্তের আওতায় আসে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। অভিযোগকারীদের দাবি, তদন্ত শুরু হওয়ার পরই ভিডিও ওয়াল সরবরাহ করা হয়েছে। এখানেই তৈরি হয়েছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—যে কাজের অস্তিত্ব বা সম্পূর্ণতা বিল প্রদানের সময় নিশ্চিত করার কথা, সেটি যদি পরে সরবরাহ করা হয়ে থাকে, তাহলে আগের বিল কীভাবে ছাড় হলো ?
আরও অভিযোগ, তদন্তকারী কর্মকর্তাদের একটি অংশকে প্রভাবিত করে বিষয়টি ‘মেরামতযোগ্য অনিয়ম’ হিসেবে দেখিয়ে দায়মুক্তির চেষ্টা চলছে। এ কাজে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তদন্ত কমিটির উচিত হবে—বিল অনুমোদনের তারিখ, কাজ সম্পন্নের তারিখ, সরবরাহের চালান, স্টক রেজিস্টার, পরিদর্শন প্রতিবেদন, পরিমাপ বই এবং সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের স্বাক্ষর মিলিয়ে দেখা।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ‘গ্লাস টাওয়ার’, তিনগুণ দামে লাইট কেনার অভিযোগ :
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গ্লাস টাওয়ার প্রকল্পেও জাহাঙ্গীর আলমকে ঘিরে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিশেষ ধরনের লাইট বাজারমূল্যের তুলনায় প্রায় তিনগুণ দামে দেখিয়ে বিল করা হয়েছে। একটি নির্দিষ্ট এনার্জি গ্লাস কোম্পানির সঙ্গে যোগসাজশের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলনের অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, শুধু এই প্রকল্পেই অনিয়মের পরিমাণ প্রায় ৮ কোটি টাকা হতে পারে।
এক কর্মকর্তা অভিযোগ করে বলেন, “বাজারে যে লাইটের দাম এক টাকা, নথিতে সেটি তিন টাকা দেখানোর অভিযোগ রয়েছে। অতিরিক্ত অর্থের একটি বড় অংশ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ভাগাভাগি হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।” এই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে দরপত্রের BOQ, প্রাক্কলন, বাজারদর যাচাই, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কোটেশন, কার্যাদেশ, বিল এবং পেমেন্ট রেকর্ড পরীক্ষা করা জরুরি।
‘জাহাঙ্গীর-মডেল’ : একই হাতে প্রাক্কলন ও যাচাই ?
অভিযোগের আরেকটি গুরুতর দিক হলো—কিছু প্রকল্পে প্রাক্কলন প্রস্তুত ও তা যাচাইয়ের দায়িত্ব একই ব্যক্তির হাতে থাকার অভিযোগ। এতে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হয়ে প্রকল্প ব্যয় ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে দেখানোর সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা। রায়েরবাজার বধ্যভূমি উপকেন্দ্র প্রকল্প এবং জিগাতলা প্রকল্পে স্বাক্ষরবিহীন বা অসম্পূর্ণ স্বাক্ষরযুক্ত বিল প্রক্রিয়াকরণের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগকারীদের প্রশ্ন—দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার স্বাক্ষর ছাড়া যদি সরকারি অর্থ ছাড় হয়, তাহলে সেই বিল অনুমোদনের প্রশাসনিক ভিত্তি কী ছিল ?
রাজশাহী ‘নেটওয়ার্ক’, নিয়োগ ও অতিরিক্ত বেতনের অভিযোগ :
জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে গণপূর্তের ই/এম বিভাগের উপ-বিভাগ-৩ ও ৪-এ নিজ এলাকা রাজশাহী-কেন্দ্রিক একটি প্রভাববলয় তৈরির অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে নিয়োগ ও পদায়ন, কাজ না করেও অতিরিক্ত বা দ্বিগুণ বেতন প্রদানের মতো অনিয়ম হয়েছে। এমনকি সরকারি দপ্তরের হিসাব সহকারী বা ‘বড়বাবু’র দায়িত্বে ঠিকাদারের লোকজনকে কাজে লাগানোর অভিযোগও রয়েছে।
প্রধান বিচারপতির সরকারি বাসভবনের কাজেও অভিযোগ :
প্রধান বিচারপতির সরকারি বাসভবনের বিভিন্ন কাজেও নিম্নমানের সামগ্রী, সময়মতো কাজ শেষ না করা এবং ভুল মালামাল সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তার দাবি, এসব ঘটনায় অসন্তোষ তৈরি হয় এবং পরবর্তী সময়ে জাহাঙ্গীর আলমের বদলির পেছনেও বিষয়গুলোর প্রভাব ছিল। ২০১২-১৬: ডিউটি না করেই বেতন ? জাহাঙ্গীর আলমের কর্মজীবনের পুরোনো সময় নিয়েও উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন। একাধিক কর্মকর্তার অভিযোগ, ২০১২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ—বিআইডব্লিউটিএতে সহকারী প্রকৌশলী থাকাকালে নিয়মিত দায়িত্ব পালন না করেও বেতন-ভাতা নেওয়া হয়েছে। একই সময় তার সম্পদ বৃদ্ধির গতি অস্বাভাবিক ছিল বলেও অভিযোগকারীদের দাবি। এই অভিযোগ যাচাইয়ে ওই সময়ের হাজিরা, ডিউটি রোস্টার, ট্যুর বিল, বেতন-ভাতা, ছুটির রেকর্ড এবং সম্পদ বিবরণী যাচাই করা প্রয়োজন।
দুই বছরে শত কোটি টাকার মালিক ?
অভিযোগের তালিকায় বাড়ি-ফ্ল্যাট-প্লট-রিসোর্ট জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বিস্তৃত অভিযোগ তার সম্পদ নিয়ে।অভিযোগকারীদের দাবি, তার ঘোষিত আয় ও সম্পদের তুলনায় বাস্তব সম্পদের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বেশি। অভিযোগের তালিকায় রয়েছে— মোহাম্মদপুরে আলিশান বাড়ি,মিরপুরে ছয়তলা বাড়ি, পশ্চিম মনিপুরের মোল্লাপাড়ায় আলিশান বাড়ি—বাসা নং ৮৯, বসুন্ধরা আবাসিকে পাঁচ কাঠা আয়তনের তিনটি প্লট, উত্তরা সেক্টর-১৩, রোড-৮ এলাকায় স্ত্রীর নামে ফ্ল্যাট, স্ত্রীর নামে কোটি টাকার দুটি এফডিআর, কুয়াকাটা ও কক্সবাজারে রিসোর্ট/ফ্ল্যাট, গ্রামের বাড়িতে বিপুল পরিমাণ জমি, ব্র্যান্ড নিউ লেক্সাস হ্যারিয়ার গাড়ি ও শাশুড়ির নামে সন্দেহজনক ব্যাংক লেনদেন, এবং বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ। এসব সম্পদের মালিকানা, ক্রয়ের অর্থের উৎস, ব্যাংক লেনদেন ও প্রকৃত বাজারমূল্য যাচাই করা গেলে অভিযোগের সত্যতা অনেকটাই স্পষ্ট হতে পারে।
জুলাই আন্দোলনে অর্থ সহায়তার অভিযোগ, রাজশাহীতে বিক্ষোভ :
জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় রাজশাহীতে আন্দোলন দমনে স্থানীয় আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের অর্থসহায়তা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগের জেরে শিক্ষার্থীরা তার বিরুদ্ধে মিছিল করেছিল বলেও দাবি করা হয়েছে।
সরকারি তদন্ত কমিটির নথিতেই মিলল অভিযোগ তদন্তের প্রমাণ :
জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে প্রকাশিত অভিযোগ তদন্তে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বলে সরবরাহ করা অফিস আদেশে দেখা যায়। যার স্মারক নম্বর: ২৫.০০.০০০০.০০০.১০২.৩১.০০৬.২৬-১৭, অফিস আদেশে বলা হয়েছে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই/এম কাঠের কারখানা বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহাংগীর আলমের বিরুদ্ধে ‘স্বাধীন বাংলা’ পত্রিকায় প্রকাশিত অভিযোগ তদন্তের জন্য গঠিত তদন্ত কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে ।
সভাটি গত ৯ জুলাই ২০২৬ সকাল ১১টায় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের পরিত্যক্ত সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা অধিশাখার যুগ্মসচিবের অফিসে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।
তদন্ত কমিটির সদস্য :
মোহাম্মদ বদিউল আলম নির্বাহী প্রকৌশলী (বাস্তবায়ন-৫) ও প্রকল্প ব্যবস্থাপক-১, অতিরিক্ত দায়িত্বে প্রকল্প পরিচালক—পূর্বাচল পানি সরবরাহ PPP প্রকল্প/পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), ঢাকা।
অজান্তা শুক্লা তন্মা নির্বাহী প্রকৌশলী, গণপূর্ত ই/এম ডিজাইন বিভাগ-২, ঢাকা। অফিস আদেশে সভার নোটিশ প্রাপকদের সচিবালয়ে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিবালয় নিরাপত্তা শাখাকে অনুরোধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী এবং মন্ত্রণালয়ের সিস্টেম এনালিস্টকেও অনুলিপি দেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।
তদন্তই এখন মূল পরীক্ষা : ‘বিল আগে, কাজ পরে’ হলে দায় কার ? জাহাঙ্গীর আলমকে ঘিরে অভিযোগের ব্যাপ্তি এখন আর একটি-দুটি প্রকল্পে সীমাবদ্ধ নেই। জিগাতলা, রায়েরবাজার, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ বিভিন্ন প্রকল্পের বিল, প্রাক্কলন, টেন্ডার, সরবরাহ ও সম্পদ অর্জনের অভিযোগ সামনে এসেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে—যদি তদন্তের পর দেখা যায়, কোনো কাজ সম্পন্ন হওয়ার আগেই বিল দেওয়া হয়েছিল, তাহলে সেই বিল অনুমোদনকারী থেকে অর্থ ছাড়কারী পর্যন্ত প্রত্যেকের দায় নির্ধারণ হবে কি না।
আর যদি তদন্ত শুরুর পর অসম্পন্ন কাজ সম্পন্ন করে আগের বিলের অনিয়ম ঢাকার চেষ্টা হয়ে থাকে, তাহলে সেটিও তদন্তের আওতায় আসা প্রয়োজন। কারণ সরকারি অর্থের ক্ষেত্রে পরে কাজ করে দেওয়া আগের অনিয়মকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৈধ করে না—বিল প্রদানের সময় কাজটি বাস্তবে সম্পন্ন হয়েছিল কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
দুদকের সামনে এখন বড় পরীক্ষা : জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের মধ্যে অবৈধ সম্পদ, টেন্ডার-বাণিজ্য, বিল জালিয়াতি, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, স্বাক্ষরবিহীন বিল, রাজনৈতিক প্রভাব, নিয়োগ-বাণিজ্য এবং বিদেশে অর্থ পাচারের মতো গুরুতর বিষয় রয়েছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করছেন। এ কারণে সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, শুধু দাপ্তরিক তদন্তে সীমাবদ্ধ না রেখে— ব্যাংক হিসাব, আয়কর নথি, সম্পদ বিবরণী, জমির দলিল, ফ্ল্যাট ও প্লটের রেজিস্ট্রি, গাড়ির মালিকানা, এফডিআর, বিদেশ ভ্রমণ ও বৈদেশিক লেনদেন, প্রকল্পের BOQ, বিল-ভাউচার, পরিমাপ বই, কার্যাদেশ এবং ঠিকাদারদের পেমেন্ট—সবকিছু একসঙ্গে যাচাই করা হোক। তদন্তে যদি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সরকারি অর্থ উদ্ধারের উদ্যোগও জরুরি। আর অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে সেটিও স্পষ্টভাবে জনসমক্ষে আসা উচিত। কারণ শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি শুধু মো. জাহাঙ্গীর আলমকে ঘিরে নয়—গণপূর্ত অধিদপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানে ‘কাজের আগে বিল’ এবং ‘স্বাক্ষর ছাড়াই অর্থ ছাড়’—এমন সংস্কৃতি আদৌ কতটা বিস্তৃত, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
তদন্তের ফলাফলই বলে দেবে—এটি কি একজন প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে বিচ্ছিন্ন অভিযোগ, নাকি এর আড়ালে রয়েছে আরও বড় কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সিন্ডিকেট।
<p>..</p>
Copyright © 2025 All rights reserved ভোরের আলো