ক্রীড়া ডেস্ক : সময়টা ২০০৭ সালের ডিসেম্বর। বার্সেলোনার ক্যাম্প ন্যু স্টেডিয়ামের এক ড্রেসিংরুমে তখন রচিত হচ্ছিল ফুটবলের ইতিহাসের সবচেয়ে পরাবাস্তব এক মহাকাব্য। কে জানত, সেদিন এক লাজুক তরুণের কোলে পরম নিশ্চিন্তে খেলা করা পাঁচ মাসের সেই শিশুই একদিন বিশ্বমঞ্চে কাঁপন ধরাবে! হ্যাঁ, নিয়তি যেন নিজের হাতে লিখেছিল এই চিত্রনাট্য। আজ থেকে দীর্ঘ ১৯ বছর আগে, যখন লিওনেল মেসি নামক এক জাদুকর বিশ্বজয়ের পথে কেবল পা বাড়িয়েছেন, ঠিক তখনই তার স্পর্শ পেয়েছিলেন আজকের স্প্যানিশ ফুটবলের নতুন বিস্ময়; লামিন ইয়ামাল!
এটি কোনো পরিকল্পিত ফটোশুট ছিল না, ছিল স্রেফ ভাগ্যের এক অদ্ভুত খেলা। ইউনিসেফ এবং কাতালুনিয়ার স্থানীয় সংবাদপত্র ‘দিয়ারিও স্পোর্ট’-এর যৌথ চ্যারিটি লটারিতে বিজয়ী হয় মাতারো অঞ্চলের এক স্বল্প আয়ের পরিবার। আর পুরস্কার? বার্সেলোনার এক উদীয়মান তারকার সাথে ছবি তোলার সুযোগ! সেই লটারির টিকিটই যেন বদলে দিয়েছিল ফুটবলের ইতিহাসকে। মাত্র ২০ বছর বয়সী লাজুক মেসি সেদিন জলভর্তি প্লাস্টিকের টাবে থাকা ছোট্ট ইয়ামালকে কোলে নিতে বারবার দ্বিধায় ভুগছিলেন। শেষে মা শেইলা ইবানার পরম মমতায় অভয় দেওয়ার পর ক্যামেরা বন্দি হয় সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত। আলোকচিত্রী জোয়ান মনফোর্টও হয়তো ভাবেননি, তার ক্যামেরার শাটার ক্লিকের সাথে সাথে ফ্রেমবন্দি হচ্ছে ফুটবলের দুই প্রজন্মের এক স্বর্গীয় মিলনমেলা।
কিন্তু এই মহামূল্যবান স্মৃতি কেন দীর্ঘ ১৭ বছর আড়ালে পড়ে রইল? উত্তর লুকিয়ে ছিল এক বাবার গভীর ভালোবাসায়। ইয়ামালের বাবা খুব ভালো করেই জানতেন, এই ছবি প্রকাশ পেলে ছোট্ট ইয়ামালের ওপর চেপে বসবে লিওনেল মেসির সাথে তুলনার এক পর্বতসম মানসিক চাপ। তাই বছরের পর বছর ধরে তিনি বুকের গভীরে চেপে রেখেছিলেন এই পরম সত্য। অবশেষে ২০২৪ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ চলাকালীন, যখন ইয়ামাল নিজের পায়ে ইতিহাস লিখছেন, ঠিক তখনই তার বাবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেন এই ছবি। মুহূর্তের মধ্যেই স্তব্ধ হয়ে যায় পুরো ফুটবল বিশ্ব! বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এক অদ্ভুত রোমাঞ্চকর আলোচনা। রসিক ফুটবলপ্রেমীরা তো বলেই বসলেন, মেসি যেন নিজের অজান্তেই তার ফুটবল প্রতিভার সেই ঐশ্বরিক জাদু সেদিন পানি ছিটিয়ে স্পর্শ করিয়ে দিয়েছিলেন ছোট্ট ইয়ামালের গায়ে।
ফ্রান্সকে উড়িয়ে দিয়ে স্পেনের ইউরো জয়ের সেই নায়ক লামিন ইয়ামাল এখন আর কোনো কাকতালীয় নাম নন। ১৭ বছর আগের সেই লাজুক মেসির কোল থেকে উঠে আসা শিশুই আজ বিশ্বফুটবলের ধ্রুবতারা।
<p>..</p>
Copyright © 2025 All rights reserved ভোরের আলো